শীতের শুরুতেই দেশে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের ঠান্ডা বাতাস, ধুলাবালু এবং শীতের শুষ্ক আবহাওয়া হাঁপানির রোগীদের অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বুকে চাপ অনুভবের রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাঁপানি বিশেষজ্ঞরা জানান, শীতের সময় দুষিত বাতাস, ফুলের রেণু, ধুলাবালু এবং ভাইরাসজনিত সর্দি–এগুলোই হাঁপানি বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ায় সামান্য ঠান্ডাতেও তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন।
প্রতিকার ও করণীয়
১. ইনহেলার ব্যবহারে সচেতনতা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাঁপানি রোগীদের নিয়মিত ‘কন্ট্রোলার ইনহেলার’ ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। উপসর্গ বাড়লে দ্রুত ‘রিলিভার ইনহেলার’ নিতে হবে। অনেকে ইনহেলার ব্যবহারে অবহেলা করেন—ফলে শীতের শুরুতেই সমস্যা তীব্র হয়।
২. ঠান্ডা ও ধুলাবালি থেকে সুরক্ষা
শীতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে সকালে বা রাতে বেলা ঠান্ডা বেশি থাকায় রোগীদের এই সময় বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ধুলাবালু থেকে বাঁচতে বাসার জানালা-দরজা পরিষ্কার রাখা, বিছানার চাদর নিয়মিত বদলানো এবং ঘরভর্তি ধুলো না জমতে দেওয়া জরুরি।
৩. গরম পোশাক ও গরম পানি
ঠান্ডা লাগলে হাঁপানি দ্রুত বাড়ে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী গরম পোশাক ব্যবহার করা, খুব ঠান্ডা পানি বা বরফজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা এবং গরম পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
৪. ধূমপান ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা
ধূমপান হাঁপানির অন্যতম প্রধান ট্রিগার। শুধু ধূমপান নয়, রান্নার ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়া, আগুনের ধোঁয়া—সবই শ্বাসকষ্ট বাড়ায়। পরিবারে কেউ ধূমপান করলে হাঁপানি রোগীর ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
৫. নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষা
শীতের সময়ে অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে যেতে অবহেলা করেন। এতে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, যাদের হাঁপানির ইতিহাস আছে, তাদের শীত শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাঁপানি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ হলেও অবহেলা করলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। শীতে শ্বাসনালীর সংক্রমণ বাড়ে—তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অপরিহার্য। উপসর্গ যেমন—অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট, বুকে শিসধ্বনি, বুকে চাপ, রাতের বেলা কাশি—এসব দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
শীত যত বাড়ছে, হাঁপানির প্রকোপও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতনতা ও নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করলে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
