কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে নারী সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের সংগঠন “আওয়াজ”।
গত ১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করে সংগঠনটি।
সভায় জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নারীদের উত্ত্যক্ত করা, প্রতারণা, গোপনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া, এমনকি যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ ও চলাফেরা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
“আওয়াজ”-এর সভাপতি আইরিন আকতার বলেন,
“আমরা চাই, কক্সবাজারে যেন কোনো নারী ভয়ের মধ্যে না পড়ে। প্রতিটি নারী নিরাপদে এখানে ভ্রমণ ও অবস্থান করতে পারে, সে জন্যই আমাদের প্রস্তাবগুলো জেলা প্রশাসকের কাছে দিয়েছি।”
প্রস্তাবগুলো হলো—
- সমুদ্র সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নারী পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো ও নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা
- আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং
- যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ ও দ্রুত বিচার বাস্তবায়ন
- গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা সাইবার ক্রাইমের আওতায় এনে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা
- শহরের জনবহুল এলাকায় সাইনবোর্ড, ব্যানার ও বড় পর্দায় প্রচারণা চালিয়ে নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি
- সৈকতে পেশাদার ও অপেশাদার ফটোগ্রাফারদের নিবিড় নজরদারির আওতায় আনা
- নারীদের জন্য নারী-বান্ধব স্পট ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন এবং দালাল ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন,
“তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন “আওয়াজ”-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উম্মে হাবিবা শিরু, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকসানা আক্তার সুমি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়া আলম শেখলা, ম্যাগাজিন সম্পাদক মাহিয়া রহমান, সদস্য শারজিনা আক্তার ও আসমাউল হুসনা।
