টেকনাফে মানবপাচারের অভিযোগ: আলোচনায় ‘মলই শফিক’, নিখোঁজদের খোঁজে পরিবারগুলোর আহাজারি
স্টাফ রিপোর্টার | টেকনাফ উপজেলা
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা-এ আবারও মানবপাচারের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। উপজেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশখালীয়া পাড়া এলাকার মৃত ইউসুফ জালালের পুত্র মোহাম্মদ শফিক, স্থানীয়ভাবে ‘মলই শফিক’ নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মলই শফিক দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থেকে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মানবপাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফের বিভিন্ন নৌঘাট ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে তার সিন্ডিকেট মিয়ানমারে খাদ্যদ্রব্য পাচার করে এবং এর বিনিময়ে দেশে মাদক ও অস্ত্রের চালান নিয়ে আসে। একই রুট ব্যবহার করে মানবপাচারও চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অবৈধ অর্থের প্রভাব ও হুমকি-ধমকির মাধ্যমে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। ফলে অনেকেই ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।
গত ১১ এপ্রিল আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ২৭৩ জন যাত্রীবাহী একটি ট্রলার ডুবির ঘটনায় তার নাম পুনরায় আলোচনায় আসে। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, সীমান্ত এলাকার মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাদের সন্তানদের এনে মলই শফিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রলারে তোলা হয়। তবে দীর্ঘ ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পরিবারগুলো সরকারের কাছে তাদের সন্তানদের উদ্ধারের পাশাপাশি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইসলামী যুব আন্দোলন টেকনাফ দক্ষিণ শাখার সভাপতি জালাল উদ্দীন খলিল বলেন, “কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তার দায় সংগঠন নেবে না। মাওলানা শফিক পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ হওয়া জরুরি।”
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
