কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার জুড়ে বালিয়াড়ি ভেঙে পড়ছে একের পর এক। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে গেছে শতাধিক সমুদ্রের পাশে থাকা ঝাউগাছ। ভেঙে যাচ্ছে রাস্তা, ঝাউগাছের গুঁড়িতে ছিঁড়ে গেছে গাছের আশেপাশের বৈদ্যুতিক তার। হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি ও বেসরকারি বহু স্থাপনা।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশেই এক জেলে বলেন, প্রতিবছর বর্ষা আসলেই সাগরের ঢেউ ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। আমরা আতঙ্কে থাকি- কখন না জানি বাড়িঘর ভেঙে যায়, কখন রাস্তা গাড ভেঙে যায়।
দেখা গেছে, সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ির ভাঙন ঠেকাতে আগে থেকেই ফেলা হয়েছিল পাশে জিও ব্যাগ। কিন্তু সেই জিও ব্যাগও একের পর এক ঢেউয়ের ধাক্কায় সরে যাচ্ছে, উপড়ে পড়ছে বড় বড় ঝাউগাছ। সমুদ্র সৈকতের কলাতলী থেকে নাজিরারটেক পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকান ও পর্যটন ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট বহু স্থাপনা রয়েছে। এসবই এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সমুদ্র সৈকতের ভাঙনে শুধু প্রকৃতি নয়, আমাদের জীবন-জীবিকাও হারিয়ে যাচ্ছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে সৈকতের এই সৌন্দর্য্য আর রক্ষা পাবে না।
সৈকতপাড়ের ব্যবসায়ীদের মতে, গেলো কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম আসলেই একই সমস্যা চলছে। জোয়ারের তীব্রতা বেড়ে সাগরের পানি উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। আর এই কারণে দ্রুত ভেঙে পড়ে সমুদ্র সৈকতের সুন্দর বালিয়াড়ি। তবে এবারের ভাঙন একটু বেশিই ভয়াবহ বলে মনে করেন তারা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিশ্বের অন্যতম এই পর্যটন এলাকা তার সৌন্দর্য হারাতে পারে।
