May 30, 2026

ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে চাইলে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে : নাহিদ 

ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে চাইলে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে : নাহিদ
গণঅভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে নতুন করে ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনগণ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে গণঅভ্যুত্থানে নেমেছিল। আগামীতে কেউ যদি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে চায়, জনগণ আবারও রাজপথে নামবে বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ শনিবার (১৯ জুলাই) রাত নয়টায় বান্দরবান শহরের শহীদ আবু সাঈদ মুক্তমঞ্চের সামনে এনসিপির পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
এনসিপি নেতা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতিসত্তার পরিচয়ে নিপীড়ন, নির্যাতন, বিভাজন আমরা মেনে নেব না। ঘরে ঘরে ইনসাফের উন্নয়ন পৌঁছে দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চলকে সমৃদ্ধশালী করতে চাই।জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য। যার মাধ্যমে আমরা চেয়েছি রাষ্ট্রকে নতুন করে বিনির্মাণ করতে। যে ব্যবস্থাগুলো জনগণের পক্ষে তৈরি হয়নি। যে আইন, সংবিধান আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রেখেছে, মানবাধিকার মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেই রাষ্ট্রের বদল ঘটিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবো।
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। মানুষের পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু সিস্টেম অক্ষত রয়ে গেছে। আমরা জানি যুগযুগ ধরে বাংলাদেশে বহুজাতি গোষ্ঠী বসবাস করে, মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে যে সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে সব জাতীগোষ্ঠী ও ধর্মকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে নাই। সবাইকে নাগরিক মর্যাদা দিতে পারে নাই। ফলে মুজিববাদী সংবিধান গোড়া থেকেই ফ্যাসিস্ট সংবিধান ছিল।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেটি সমাজ ও রাষ্ট্রে সব সময় বিভাজন তৈরি করে রাখতো। কখনো মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকার, কখনো বাঙালি বনাম পাহাড়ি, কখনো ইসলাম বনাম ধর্ম নিরপেক্ষতা। নানা নামে নানা সময়ে বিভাজন তৈরি করে রেখেছিল। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে সব বিভাজন দূর হয়েছে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ জায়গায় আসতে পেরেছি, আমাদের ঐক্যের জায়গাটি ছিল বাংলাদেশ।
এ সময় অন্যদের মধ্যে দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, স্থানীয় জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ শহীদুর রহমান সোহেল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *