May 30, 2026

রাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের ‘লাল কার্ড’ প্রতিবাদ

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগে তদন্তাধীন ব্যক্তি মশিউর রহমানকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন এবং প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শনের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সকাল ১০টা থেকেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ—
“দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে লাল কার্ড”,
“প্রতারকের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না”,
“মশিউরকে মানি না, মানি না”— এমন নানা প্রতিবাদী ধ্বনিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

জিশান আহম্মেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী শামস শাহরিয়ার, মোহাম্মদ সাঈদ ও রাকিবুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, “যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকেই দুর্নীতির তদন্ত চলছে, তাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাবিপ্রবি কোনোভাবেই দুর্নীতিবাজদের পুনর্বাসনের জায়গা হতে পারে না।”

আন্দোলনের কারণে ভিসি অফিস সংলগ্ন এলাকায় কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তারা নিয়মিত ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং প্রক্টরিয়াল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি চালায়।

একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল আলোচনায় বসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।

এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তারা বলেন, “প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, প্রয়োজনে আমরণ কর্মসূচিও দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও রাবিপ্রবিতে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। ফলে নতুন এই বিতর্কিত নিয়োগের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেবল একটি নিয়োগের বিরুদ্ধে নয়— বরং নৈতিক, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *